Thoughts after reading OITIHAS O ITIHAS CHINTA Shri Subhankar Debnath
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দুই প্রবীণ অধ্যাপক জহর সেন ও তাঁর ছাত্র নির্বাণ বসু বিভিন্ন সময়ে বাংলার সুপ্রসিদ্ধ ইতিহাস বিদদের জীবন ও কর্ম নিয়ে তথ্যপূর্ণ ও সুখপাঠ্য যেসব প্রবন্ধ লিখেছিলেন এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলি সজল বসু সম্পাদনা করে দুই মলাটের মধ্যে তুলে ধরেছেন এই গ্রন্থে। এই সব বরেণ্য ঐতিহাসিকদের মধ্যে আছেন যদুনাথ সরকার, রমেশ চন্দ্র মজুমদার, নির্মল চন্দ্র সিংহ, অমলেশ ত্রিপাঠী, হরিদাস মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী ভট্টাচার্য, বিনয়ভূষণ চৌধুরী, ও নিশীথ রঞ্জন রায়। এঁরা প্রায় সকলেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, অনেকেই দীর্ঘ দিন এই বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপনা করেছেন কৃতিত্বের সঙ্গে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ও যুক্ত ছিলেন এবং সেইসব জায়গায়ও কৃতিত্বের চাপ রেখেছেন। যদুনাথ সরকার ও রমেশ চন্দ্র মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও অধ্যাপনা করেছেন। সব্যসাচী ভট্টাচার্য ছিলেননয়া দিল্লীর জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী অধ্যাপক। এনাদের প্রায় সকলে রই ভারত জোড়া খ্যাতি ছিল, এমন কি আন্তর্জাতিক ভাবে ও স্বীকৃত। ভারত ইতিহাসের নানা যুগ নিয়ে নানা আঙ্গিক থেকে তাঁরা ইতিহাস চর্চা করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের গবেষক ছাত্রদের গবেষণা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস চর্চায় এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে; যা ছিল বহুধা বিস্তৃত, কোনও এক নির্দিষ্ট ধারার অনুসারী নয়। এক মাত্র ব্যতিক্রমী নৃতত্ত্ববিদ ভেরিয়ার এলুইন। আজ এই বিশিষ্ট ঐতিহাসিকদের অনেকেই বিস্মৃতপ্রায় প্রায়। কিন্তু তাঁদের কাজ-কর্মের বিরাট পরিধি পরবর্তী প্রজন্মের ছাত্র ও গবেষকদের অবশ্যই জানা উচিত। সম্পাদক সজল বসু তার উপস্থাপনায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যেপ্রচার মন্ত্রের চক্রব্যূহের বাইরে ও এসব ঐতিহাসিকরা থেকে গেছেন।
সংকলনটির
প্রথম অংশে যেমন বিশিষ্ট ঐতিহাসিকদের জীবনী ও কর্মের কথা তুলে ধরা হয়েছে তেমনই দ্বিতীয়
অংশেও ইতিহাস চিন্তা শীর্ষক অধ্যায়ে এইসব ঐতিহাসিকদের ইতিহাস চিন্তা, ইতিহাস রচনার প্রণালী, ইতিহাস রচনার অভিমুখ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, ইতিহাস চর্চায় উত্থাপিত নতুন
নতুন প্রশ্ন, ইতিহাস চর্চায় বিকৃতি ইত্যাদি নানা বিষয়ে
আলোচিত হয়েছে। এক
কথায় বলা যেতে পারে স্বল্পপরিসরে একাধিক সুলিখিত প্রবন্ধের মাধ্যমে এই দুই প্রবীণ
ঐতিহাসিক গুরু-শিষ্য পরম্পরার ইতিহাসের ছাত্র, অধ্যাপক ও গবেষকদের পাশা-পাশি সাধারণ অনুসন্ধিৎসু মানুষের কাছেই সমান
আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এই রকম একটি সুন্দর গ্রন্থ উপহার দেওয়ার জন্য লেখকদ্বয়, সম্পাদক ও প্রকাশক বসুধানন্দ বুকস এন্ড পাবলিকেশন কে ধন্যবাদ জানাই।
শুভঙ্কর দেবনাথ
গবেষক, ইতিহাস বিভাগ, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
 (2).png)
