Thoughts after reading OITIHAS O ITIHAS CHINTA SRI SUBHENDU BISWAS
“ইতিহাসকে জানতে হলে আগে ঐতিহাসিককে জানো”— বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ই. এইচ. কার-এর এই বিখ্যাত উক্তিটি ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্য বহন করে। সাধারণভাবে ইতিহাস বলতে আমরা অতীতের ঘটনা, তথ্য ও দলিলভিত্তিক বিবরণকে বুঝে থাকি। কিন্তু ইতিহাস কেবলমাত্র তথ্যের সমষ্টি নয়; ইতিহাস রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকে ইতিহাসবিদের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা, মূল্যবোধ এবং ব্যাখ্যার পদ্ধতি। সেই কারণেই কোনও ইতিহাসকে যথার্থভাবে অনুধাবন করতে হলে ইতিহাসবিদকেও জানা জরুরি।
একজন ঐতিহাসিকের প্রধান কাজ হল অতীতের ঘটনাবলিকে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যার মাধ্যমে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা। ঐতিহাসিকের উচিত নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণ করা এবং কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী, মতবাদ বা রাজনৈতিক শক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব না দেখানো। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে ইতিহাসচর্চা সবসময় এতটা সহজ হয়না। ইতিহাসবিদ নিজে একটি নির্দিষ্ট সমাজ, সময় ও সংস্কৃতির অংশ। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা সামাজিক পরিবেশ অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর ইতিহাসরচনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস কি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে লেখা সম্ভব? ইতিহাসচর্চার দীর্ঘ পরম্পরায় এই প্রশ্ন নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। বিশেষত যখন রাষ্ট্র, শাসকশ্রেণি বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ইতিহাসকে ব্যবহার করতে চায়, তখন ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে যে ক্ষমতাসীন শক্তি নিজেদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ইতিহাসকে বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। ফলে ইতিহাসের তথাকথিত ‘নিরপেক্ষ সত্য’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এই প্রেক্ষাপটে ইতিহাসবিদদের জীবন, চিন্তাভাবনা, গবেষণাপদ্ধতি এবং রচনাশৈলী সম্পর্কে জানা বিশেষ প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। একজন ইতিহাসবিদ কোন সামাজিক ও বৌদ্ধিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন, কী ধরনের উৎস ব্যবহার করেছেন, তাঁর গবেষণার লক্ষ্য কী —এসব বিষয় জানা থাকলে তাঁর রচিত ইতিহাসকেও আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ ইতিহাসকে বোঝার জন্য ঐতিহাসিককে বোঝা অপরিহার্য। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি অনেকাংশে সম্পাদন করেছে ঐতিহাসিক ও ইতিহাস চিন্তা শীর্ষক গ্রন্থটি, যা কেবল কয়েকজন ইতিহাসবিদের জীবনী তুলে ধরেনি; তাঁদের ইতিহাসচর্চার পদ্ধতি, চিন্তার জগৎ এবং ইতিহাস সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিকেও বিশ্লেষণ করেছে।
আলোচ্য গ্ৰন্থটির দুটি অংশ। প্রথম অংশে দশ <
 (2).png)

